শিরোনামঃ

শেবাচিম হাসপাতাল থেকে অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট উৎখাত



শাকিব উল হক


বরিশাল প্রতিনিধি



বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল চত্বর থেকে অবশেষে উৎখাত করা হলো দীর্ঘদিন ধরে দৌরাত্ম্য চালানো অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট। স্বাস্থ্যখাত সংস্কার ও সিন্ডিকেটবিরোধী আন্দোলনের ২২তম দিনে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাত্র আধাঘণ্টার মৌখিক নোটিশে হাসপাতাল চত্বর থেকে সকল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেন তিনি এবং স্ট্যান্ডের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।


হাসপাতাল পরিচালক জানান, রোগীদের জিম্মি করে কোনো সিন্ডিকেট আর চলতে দেওয়া হবে না। বেসরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করতে পারবে না। রোগী নিয়ে এলে তাদের নামিয়ে দিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে হবে। জরুরি বিভাগের কাছে রাখা হয়েছে সরকারি ৭টি অ্যাম্বুলেন্স। পাশাপাশি ভাড়া তালিকা টাঙানো হয়েছে যাতে রোগীরা স্বল্পমূল্যে সরকারি সেবা পান।


সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ৩০০ টাকা, আর সিটির বাইরে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা। রোগী বা স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পেতে ০১৭৮২৭৫৫৫০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।


জানা গেছে,শেবাচিম হাসপাতাল চত্বরে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় একশত অ্যাম্বুলেন্স চলত। এর মধ্যে ২০টির মতো মাইক্রোবাস অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্সে রূপান্তর করে রোগী পরিবহন করা হতো। এসব মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা রোগীদের জিম্মি করে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিত।


ভুক্তভোগীরা জানান, ঢাকা থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন খরচ পড়লেও সর্বোচ্চ ৩-৪ হাজার টাকা, কিন্তু সিন্ডিকেট বাধা দেওয়ায় সে সব অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে ঢুকতে পারত না। রোগীদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স আনলেও সিন্ডিকেটকে দিতে হতো বেশ ভারী অংকের টাকা কমিশন। না দিলে তাদের কাছ থেকেই ১১-১২ হাজার টাকা ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য করা হতো।


সম্প্রতি উজিরপুর উপজেলার এক শিশু রোগীকে ঢাকায় নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হন স্বজনরা। এসময় সিন্ডিকেটের বাধার মুখে পড়েন এবং প্রতিবাদ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হন উজিরপুরের সাংবাদিক জাহিদ আলম। এমন বহু ঘটনার পরও হাসপাতাল প্রশাসন নীরব ছিল। তবে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে এবার কঠোর অবস্থানে যান পরিচালক।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে খুশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। তারা বলছেন, অবশেষে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটল। এখন থেকে তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো সাশ্রয়ী মূল্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে পারবেন। তবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে তাদের জীবিকা সংকটে পড়বে এবং রোগীদেরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভোগান্তি বাড়তে পারে।


হাসপাতাল পরিচালক ডা. মশিউল মুনীর স্পষ্ট করেছেন, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক বা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেবাচিম হাসপাতালের রোগীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নতুন স্বস্তির দুয়ার খুলেছে, আর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলেছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?