- প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৪ পিএম
হাতকড়া পরে বাবার দাফনে যুবলীগ কর্মী চঞ্চল, জানাজা না পেয়ে বললেন—‘আমি এক হতভাগ্য ছেলে’
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নিলেন যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া। তবে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বাবার জানাজার নামাজে অংশ নিতে না পেরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি এক হতভাগ্য ছেলে।”
জেলবন্দি চঞ্চল মিয়ার বাবা কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রবিবার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মুক্তি পান। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁকে ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়।
কিন্তু, তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই বাবার জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে নিয়ে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান চঞ্চল মিয়া। দাফন শেষে বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাঁকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।
দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে চঞ্চল মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমি বাবার হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি বাবার জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় (মামলা নং ১৫২/২৫) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিলকিস বেগম আরো বলেন, আমার স্বামী নিরপরাধ। ৫ মাস ধরে জেলে থাকায় ৩ কন্যা সন্তানকে নিয়ে আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর বিকাল ৩টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। #
এই বিভাগের আরো খবর
-
যবিপ্রবি প্রতিনিধি:যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী নিপীড়নের বিচার ও নারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে...
-
ইউরোপ প্রতিনিধি:-আনহার বিন সাইদ বার্সেলোনায় গ্লোবাল জানালাবাদ এসোসিয়েশন স্পেন'রউদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল০৯মার্চ ২০২৬ইং রোজ রবিবার বার্সেলোনা শাহ জালাল জামে মসজিদে...
-
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বরিশাল সদর উপজেলার চর কাউয়া ইউনিয়নের নয়আনী গ্রামে “নারী কৃষক সম্মিলন ও দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন” শীর্ষক বিশেষ কর্মসূচি যৌথভাবে আয়োজন করে প্রান্তজন ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক- খানি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী কৃষক, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিরা, গণমাধ্যমকর্মীসহ মোট ১৫০ জন অংশগ্রহণকরেন।এই অনুষ্ঠানে নারী কৃষকেরা তাদের দৈনন্দিন কৃষিশ্রম, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বাস্তবতা সরাসরি উপস্থাপন করেন। নারী কৃষক মোসাঃ পারুল বেগম বলেন, কৃষিক্ষেত্রে নারী কৃষকের অবদান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত না হওয়ায় তারা কৃষক পরিচয়পত্র, কৃষিঋণ, সরকারি ইনপুট, প্রশিক্ষণ, বাজারসংযোগ এবং স্থানীয় কৃষি কমিটিতে অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুবিধা থেকে নিয়মিতভাবে বঞ্চিত হন। ফসল উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, বীজ সংরক্ষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজ সামাজিকভাবে ‘সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া একটি বড় বৈষম্য।এ বছরের নারী দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য এরাব ঃড় এধরহ এর তাৎপর্য তুলে ধরে বরিশাল পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের সদস্য আক্তারুল কবির বলেন, নারী কৃষকের অধিকার, ভূমি মালিকানা এবং ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত ছাড়া বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা কখনোই টেকসই হতে পারে না।স্থানীয় প্রতিনিধিরা নারী কৃষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নারীবান্ধব করতে হলে একটি “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।নারী কৃষকরা তাদের বক্তব্যে বলেন যদি প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত হয়, তাহলে কৃষির সঙ্গে যুক্ত নারীরাও উৎপাদনে, বাজারে এবং নীতিতে ন্যায্য অবস্থান ও সুযোগ পাবেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করতে হলে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, বণ্টন ও নীতি পরিকল্পনায় নারীর প্রয়োজন, অধিকার ও শ্রমের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ ছিল নারী কৃষকদের প্রতীকী দাবি বৃক্ষ উপস্থাপন। সেখানে নারী কৃষকেরা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ দিয়ে এক যৌথ ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করে কৃষিতে নারীর অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!