গোপালগঞ্জে এস. এ. পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে ডিবি পুলিশের অভিযান, মিললো কোটি টাকার মাদক চোরাচালনের প্রমাণ



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে মাদক চোরাচালানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে এস. এ. পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসে অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ অভিযানে কোটি টাকার মাদক চোরাচালনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ ও ম্যানেজার নূর মো. মঞ্জুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।


আজ রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাসানুর রহমানের নেতৃত্বে শহরের বিসিক ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত এস.এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুর রহমান জানান, এস. এ. পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আসা মাদকের অর্থ লেনদেন হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালানো হয়। এসময় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এছাড়া অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার নূর মো. মঞ্জুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। 


সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, একজন ব্যক্তির জন্য গোপনে একটি অর্ডার বই রাখা হয়েছিল। ওই অর্ডার বইয়ের বিভিন্ন ভাউচারে ৩৬ লাখ, ৩০ লাখ, ২৯ লাখ টাকা করে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এভাবে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি পুলিশের।


পুলিশের দাবি, এসব অর্থ কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার নূর মো. মঞ্জু গোপনে তার বাসায় নিয়ে লেনদেন করতেন। এমনকি অর্থ লেনদেনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও সরিয়ে ফেলা হতো। কক্সবাজার থেকে গোপালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহের পর এর অর্থ লেনদেনের একটি অংশ এই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হয়ে থাকতে পারে। জব্দ করা কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাসানুর রহমান।


অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করে এস. এ. পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার নূর মোঃ মঞ্জু বলেন, পুলিশ যেসব কাজগপত্র চেয়েছে সবই কিছুই দেয়া হয়েছে। লাখ লাখ টাকা ফাকা থাকায় নিরাপত্তার জন্য বাসায় বসে টাকা লেনদেন করা হতো। #

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?