শিরোনামঃ

বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোঃ শহিদ উল্লাহর প্রত্যাশা

বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযোদ্ধা সমাজ ও সাধারণ মানুষের কাছে সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান মোঃ শহিদ উল্লাহ। দীর্ঘ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি নবগঠিত *বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক)*-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পরও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। ১৯৭৮ সাল থেকে টানা প্রায় তিন দশক হিজলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নির্বাচিত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সমাজে নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রাবস্থা থেকেই। মওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৬৮ সালে ভাসানী ন্যাপের ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের থানা সভাপতি এবং জেলা সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা কালিন বরিশাল উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে হিজলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর টানা প্রায় ৩০ বছর সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

২০২১ সালের ১ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপর থেকে তিনি জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করে আসছেন। দুর্গম নদীবেষ্টিত বরিশাল উত্তরাঞ্চলে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আন্দোলন বাস্তবায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার আহতও হয়েছেন।

দেওয়ান মোঃ শহিদ উল্লাহ বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং জনকল্যাণের আদর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলাম না। বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বরিশালবাসীর উন্নয়ন এবং আধুনিক নগরায়ণের লক্ষ্যে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকেই মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নেতৃত্ব, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক জীবন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততার কারণে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে দেওয়ান মোঃ শহিদ উল্লাহ একজন যোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?