শিরোনামঃ

বাকেরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ সবাই পলাতক।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে রিমা আক্তার মাহফুজা (৩০) নামে দুই সন্তানের এক জননীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে নিহতের ১১ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে স্বামীসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।

​গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) উপজেলার কবাই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাশা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত রিমা আক্তার উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরকাঠী গ্রামের আমজেদ গাজীর মেয়ে।

​দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ড

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে লক্ষ্মীপাশা গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের ছেলে জহিরুল ইসলাম বাবলুর সঙ্গে রিমার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহতের ভাই কাওসার গাজী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রিমার ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

​স্বজনদের দাবি, গত ২৩ জুন (মঙ্গলবার) ব্যবসার অজুহাতে বাপের বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য রিমার ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। রিমা অপরাগতা প্রকাশ করলে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে নির্যাতনের কারণে রিমার মৃত্যু হলে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আইনি জটিলতা এড়াতে রিমার মুখে কীটনাশক বা বিষাক্ত ট্যাবলেট দিয়ে এটিকে 'আত্মহত্যা' বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়।

​লাশ দাফন ও পরিবারের পলায়ন

​খবর পেয়ে রিমার বাবার বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ২৪ জুন (বুধবার) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে রিমার লাশ বাবার বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

​এদিকে রিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তার ১১ বছরের কন্যাসন্তান শর্মী আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবলু ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই কাওসার হোসেন বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?