শিরোনামঃ

ভোলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা : পেশাগত দায়িত্ব পালনে নতুন আতঙ্ক



ভোলা প্রতিনিধি।।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অনেক সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে নানান বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হয়। ভোলায় সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার জন্ম দিয়েছে একটি মিথ্যা মামলা।


ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে গত ২ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) এর ৯(১)/৩০ ধারায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে ৭নং আসামি করা হয়। মামলার নথিপত্রে তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ না থাকলেও হঠাৎ করে এ মামলায় নাম ওঠে বলে জানা গেছে।


অভিযুক্ত সংবাদকর্মীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চক্র তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়িয়েছে। আমাকে আগেই হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হবে। অবশেষে তাই হলো, তিনি জানান।


বাংলাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা বা হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। বিশেষত স্থানীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা প্রায়ই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি, ভয়ভীতি বা আইনি হয়রানির শিকার হতে হয়। এর ফলে সাংবাদিকরা মানসিক চাপ, আর্থিক ক্ষতি এমনকি সামাজিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হন।


ভোলার এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। তাদের হয়রানি করা মানে সত্য গোপন করার প্রচেষ্টা। সাংবাদিকরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সমাজে দুর্নীতি, অন্যায় ও অপরাধের পর্দাফাঁস কঠিন হয়ে যাবে।


সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানোর কৌশল নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার এক ধরনের অস্ত্র। এতে করে সংবাদকর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন না। অনেকেই ভয়ে নির্দিষ্ট সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকেন, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও হুমকিস্বরূপ।


আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের হয়রানি ঠেকাতে গণমাধ্যমকর্মীদের আইনি সহায়তা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি, আদালতে মিথ্যা মামলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবেই সাংবাদিকরা নির্ভয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।


বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে অন্তত ২০০ জন সাংবাদিক ভিন্ন ভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসবাদের মতো অভিযোগে মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব মামলার অভিযোগপত্র আদালতে টিকতে পারেনি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?