- প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৭:৪৯ এএম
গলাচিপায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত, পরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
তারিখঃ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপায় গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় আলামিন গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তুলারাম গ্রামের মিজান মিয়ার মাছের ঘের পাড়ে একটি গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ত্রী নাজমা বেগমকে (৪৫) অটোরিকশায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একই ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান আলামিন গাজী। মৃত আলামিন গাজীর বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কালেখারবেড় গ্রামে। তার বাবার নাম মিজান গাজী ও মায়ের নাম নাছিমা বেগম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্ত্রী নাজমা বেগমকে (৪৫) অটোরিকশায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে নিয়ে যায় আল আমিন। পরে পানিপট্টি ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় কাজী বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে নাজমাকে ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমাকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, ঘটনার পর আলামিনের অটোরিকশাটি পানপট্টি বোয়ালিয়া বেড়িবাঁধের পূর্ব পাশে গাজী বাড়ির সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের পর থেকে আলামিন নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার একরাত পর আজ মঙ্গলবার সকালে পানপট্টির তুলারাম গ্রামের মিজান মিয়ার ঘের পাড়ে একটি গাছে আল আমিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা জানায়, নাজমা বেগমের বাবার নাম জলিল মিস্ত্রি (বিশ্বাস)। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও নাজমা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা এলাকায় বসবাস করতেন। মুরগির ফার্ম পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নাজমার আগেও দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামীর ঘরে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে নাজমা ও আলামিনের বিয়ে হয়। চার বছর আগে কাজের সূত্রে বাগেরহাট থেকে গলাচিপায় আসেন আলামিন। গলাচিপায় প্রায় দুই বছর কাজ করে তিনি (আলামিন) নিজ বাড়ি খুলনায় ফিরে যান। তবে এর মধ্যে নাজমার সঙ্গে পরিচয় থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রে ফিরে এসে তাদের বিয়ে হয় এবং একসঙ্গে সংসার করছিল। এর মধ্যে নাজমার প্রথম স্বামীর ছেলে সজল আলামিনের জন্য একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছিল, যা চালিয়েই তাদের সংসার চলছিল। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে তার স্ত্রী নাজমাকে সোমবার সন্ধ্যায় ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর মঙ্গলবার সকালে আলামিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গলাচিপা থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। আলামিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পর ঘটনার কারণ জানানো হবে।
এই বিভাগের আরো খবর
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের নদী ভাঙনে ব্লক বসানোর কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।...
-
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি একসময় রতনদী খাল ছিল গলাচিপার জনপদের প্রাণ। ভোর হলেই সারি সারি নৌকা ভিড়ত ঘাটে, ট্রলার আসত...
-
রাহাদ সুমন:কম খরচে অধিক লাভের আশায় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে সয়াবিনের আবাদ। চলতি ইরি-বোরো ও রবি মৌসুমে বিভাগে সয়াবিনের...
অনলাইন ভোট
-
-
মায়ের জানাজার সময় গাজীপুরের বিএনপি নেতা আলী আজমকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আপনি কি মনে করেন?
-
-
খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ছাড় দিয়েছে। এতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ কমবে বলে আপনি কি মনে করেন?
খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন প্রিয় বিষয়ের নিউজলেটার!