শিরোনামঃ

গলাচিপায় মাদ্রাসা সুপারের অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন, চাকরির নামে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

     সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মধ্য পানপট্টি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকসুদুর রহমানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. মাসুদুর রহমানের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদ মাসুদ মিয়ার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, চাকরির প্রতিশ্রুতির বিপরীতে মোট ৮ লাখ টাকা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের চাকরি দেওয়া হয়নি এবং ওই অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারেও মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ গুরুতর। এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।



এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মাদ্রাসার নতুন কমিটি গঠন নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে ওই অনুমোদনের পরও এখন পর্যন্ত মাদ্রাসায় কোনো কমিটি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।


তাদের ভাষ্য, মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দূর করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কমিটি গঠনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।


মানববন্ধন থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতিতে অর্থ গ্রহণ, অর্থ ফেরত না দেওয়া, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং কমিটি গঠনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


তবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ ও ৩ লাখ টাকা নেওয়া, অর্থ ফেরত না দেওয়া এবং কমিটি গঠনসংক্রান্ত অভিযোগসহ মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মুহা. মাকসুদুর রহমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?