শিরোনামঃ

বরগুনার বেতাগীতে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা




বরগুনা জেলাপ্রতিনিধি: 

বরগুনার বেতাগী উপজেলায় বিবিচিনি ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের দুই নেতা এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে যুবদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 


রোববার (২৭ জুলাই) সকালে বেতাগী থানায় মো. জাহিদ হাসান নামে এক ইট ও ড্রেজার ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করেন। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা এবং সর্দার ব্রিকস ও জাহিদ ট্রেডার্স নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। 


মামলার এজাহারে বিবিচিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হেলাল হোসেন দিনাচ (২৭), একই ইউনিয়নের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আদিল সিকদার (২৫) ও অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে, ছাত্রদল নেতা হেলাল হোসেন দিনাচের বিরুদ্ধে বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির আরেকটি মামলা রয়েছে। 


মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকায় জাহিদ হাসান তার শ্রমিকদের নিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাযোগে ১০-১২ জন যুবক দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে এসে জাহিদকে প্রশ্ন করেন—“কার অনুমতিতে এখানে বালু ফেলছেন?” 


এরপর তারা দাবি করেন, বালু ভরাট ও ব্যবসা চালাতে হলে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছাত্রদল সভাপতি হেলাল ও তার সহযোগীরা জাহিদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 


এ ঘটনায় জাহিদ হাসান বাদী হয়ে বেতাগী থানায় চাঁদাবাজির মামলা (মামলা নম্বর: ৬, তারিখ: ২৭-০৭-২০২৫, ধারা ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৮৭) দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ২ নম্বর আসামি যুবদল নেতা মো. আদিল সিকদারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। 


ছাত্রদল নেতা হেলাল হোসেন দিনাচের বিরুদ্ধে বরিশালের বাকেরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরও একটি মামলা রয়েছে (সিআর মামলা নম্বর-৫১৯, তারিখ: ২-১১-২০২৪)। নিয়ামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মাহিউদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, হেলাল তার ব্যক্তিগত জমিতে দোকান নির্মাণে বাধা দিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। 


অভিযুক্ত হেলাল হোসেন দিনাচ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। ঘটনার খবর শুনে সালিশ করতে গিয়েছিলাম। চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়।” 


অন্যদিকে মামলার বাদী মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বালু ফেলার সময় ১ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, তাই মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।” 


বেতাগী উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীন মাহামুদ বলেন, “চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হেলালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 


এবিষয়ে বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “এ মামলায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?