শিরোনামঃ

আওয়ামী দাপটে একই কর্মস্থলে ১২ বছরঃ সুপারভাইজার গৌতম এখনও সর্বেসর্বা



সোহাগ হাওলাদার,বরগুনাঃ 

বরগুনার তালতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার গৌতম চন্দ্র বসু ওরফে গৌতম বাবু ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনেও যার ক্ষমতার দাপট ছিল আকাশচুম্বী। নির্বাচনী কেন্দ্রে যিনি হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন 'আমি প্রিজাইডিং অফিসার। সব দায়িত্ব আমার। আমার ভোট কেন্দ্র থেকে শতভাগ ভোট নৌকায় যাবে।' ২০১৮ সালে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকালে ভোট কেন্দ্র থেকে দিনের ভোট রাতে গ্রহণকালে আওয়ামী নেতাদের এমনই বক্তব্য দিয়েছিলেন।  


২৪ এ ছাত্র জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সরকার পতনের পরেও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ক্রেস্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন আওয়ামী অন্ধভক্ত অনুসারী গৌতম চন্দ্র বসু।  বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্যসহ একাধিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ঝাড়াখালী ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসার টেন্ডার ছাড়া ভবন বিক্রি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম আর দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছত্রছায়ায় তিনি জবাবদিহিতার আড়ালে থাকতেন।  


২০১৫ সালে তালতলী উপজেলায় খুঁটি গেড়ে বসেন গৌতম চন্দ্র বসু। এক পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেন। দীর্ঘ বছরের বিভিন্ন সময় শিক্ষা অফিসার পদ শূন্য থাকায় উপজেলা আ. লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে রমরমা নিয়োগ-বাণিজ্যে মেতে উঠেন। যে সকল নিয়োগ বানিজ্যের সিংহভাগ যেত জেলা আ.লীগের সভাপতি এবং সাবেক এমপি শম্ভুর পকেটে। এমপি শম্ভু এবং তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনুর ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘ ১১ বছরের পথচলা একাডেমিক সুপারভাইজার গৌতম চন্দ্র বসুর। যার ফলে তিনি তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালীর গলাচিপায় বসে অদৃশ্যভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে নিয়মিত সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন তার নিয়োগকৃত প্রকল্প থেকে। বেশীরভাগ সময়ই তার উপস্থিতি ছিলনা অবহেলিত তালতলীর কর্মস্থলে।   


বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বরগুনা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে তালতলী উপজেলায় যোগদান করে গৌতম চন্দ্র বসু। ২০১৫ সাল থেকে সরকার পতনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত দাপটের সাথে কর্মস্থল পরিচালনা করেছেন। গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত শম্ভুর সহযোগিতায় উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস নিয়ন্ত্রণ করে কর্মস্থল ফাঁকি দিয়ে গলাচিপা বসে নির্বিঘ্নে নামেমাত্র চাকরি করেছেন গৌতম।   


দীর্ঘ বছর ধরে একই কর্মস্থলে চাকুরীরত থাকায় এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে আওয়ামী নেতাকর্মী নিয়ে তালতলী উপজেলাকে শিক্ষা অফিস দলীয় কার্যালয়ে পরিনত করে। শম্ভুর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের দ্বারা ম্যানেজিং কমিটির নামে পকেট কমিটি গঠন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করে। যার ফলে একাধিক মেধাবী, শিক্ষিত এবং প্রকৃত পদপ্রার্থী বেকার যুবক-যুবতী বঞ্চিত হয় তার ন্যায্য অধিকার থেকে। গৌতম চন্দ্র বসুর যোগদানের পর তালতলী উপজেলা নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম দুর্নীতির শীর্ষে অবস্থান করতে শুরু করে। একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তালতলী উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম আর দুর্নীতির খবর।  


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর) হরিণখোলা চরপাড়া ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা গৌতম চন্দ্র বসু নিজেই ছিলেন একজন অঘোষিত ক্ষমতাধর নৌকার প্রার্থী। যার ফলে দিনের ভোট রাতে গ্রহণের প্রতিবাদ করতে গেলে বিএনপি ও জামায়েতের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ভোট চুরি করে এমপি হওয়ায় নির্যাতিত নিপিড়ীত এ সকল মানুষগুলো উল্টো দিনের পর দিন পালিয়ে বেড়াতে থাকে।  


২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে ৫ই আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা পলায়নের পরেও "শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ" এই স্লোগান সম্বলিত পূর্বের গচ্ছিত ক্রেস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফারুকের যোগসাজশে তৎকালীন একজন ভদ্র, সহজ সরল এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী শিক্ষা অফিসারকে বদলি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে। ২৪শে অক্টোবর পূর্বের ক্রেস্টগুলো বিতরণ করে নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়। পরক্ষণে শিক্ষা অফিসার লিটু চট্টোপাধ্যায়কে বদলি করা হয়, তবে কর্মস্থলে এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে রয়েছেন আওয়ামী একাডেমিক সুপারভাইজার গৌতম চন্দ্র বসু এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফারুক।  


হয়রানীর ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক-কর্মচারীরা বলেন, আওয়ামী শাসনামলে গৌতম চন্দ্র বসু আমাদের থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়েছে। আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা ছিল তার অতি ঘনিষ্ঠ। তিনি প্রতিষ্ঠানিক সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেন। তাকে সাবেক এমপি শম্ভু পুষতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এখনও তার প্রভাব রয়েছে আকাশচুম্বী।  


সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অলি আহাদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সরকার পতনের পরে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে আসেননি। তার দাবি একাডেমিক সুপারভাইজার, যে প্রকল্পে চাকুরী করে সরকার পতনের পর ওই প্রকল্পের কোনো নিশ্চয়তা ছিলো না। তবে ঘটনা পুরো উল্টো। একাডেমিক সুপারভাইজার গৌতম চন্দ্র বসু একজন পাক্কা ভারতীয় দালাল এবং আওয়ামী লীগের দোসর। শম্ভুর সাথে তার জাতিগত এবং দলীয় গভীর ঘনিষ্ঠতার কথা অনেকে জানে এবং আওয়ামী শাসনামলে যে সকল অপকর্মে জড়িত ছিলেন তার ভয়েই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হওয়ায় তালতলী উপজেলার সংশ্লিষ্টদের ঘাড়ে চেপে বসার পায়তারা করছেন গৌতম। 

 স্থানীয় শিক্ষক ইউসুফ আলী বলেন, গৌতম চন্দ্র বসু আওয়ামীপন্থী একাডেমিক 

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?