শিরোনামঃ

নিষেধাজ্ঞার আগেই প্রকৃত জেলেদের তালিকা যাচাই করে চাল দেয়ার দাবি




অবরোধের আগেই জেলেদের চাল জেলেদের হাতে নিশ্চিত করা, ত্রুটিমুক্ত জেলে তালিকা তৈরি করা, জেলে চাল বিতরনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অন্য কারো মাধ্যমে নয় জেলে কার্ড সরাসরি জেলেদের হাতে দেয়ার ব্যবস্থা করা, অবরোধকালীন সময়ে জেলে পরিবারগুলোর জন্য রেশনের ব্যবস্থা করা এবং জেলে পরিবারগুলোর জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।  আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বাশবাড়িয়া লঞ্চঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এ সকল দাবি তুলে ধরেন।


কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায় বাশঁবাড়িয়া ক্ষুদ্র জেলে সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশাজীবি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ, সাংবাদিক ও ক্ষুদ্র জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন ও তাদের দাবিসমূহ তুলে ধরেন।


জেলে সম্প্রদায়ের মোহিন মাঝি বলেন, প্রতিবার চাল দিতে দেরি হয়, ধারদেনা করে সংসার চালাতে হয়। অবরোধের সময় চাল না পেলে লাভ কি? হাবিব মাঝি বলেন, কার্ড থাকা সত্ত্বেও আমি চালের স্লিপ পাইনি, আমাকে না দিয়ে যাদের দেয়া হয়েছে তারা জেলেই নয়, স্লিপ চাইলে খারাপ ব্যবহার করা হয়। হাসিনা বেগম বলেন, নদীতে মাছ ধরেই আমাদের সংসার চলে, প্রথম ২ বার চাল পাওয়ার পড়ে আজ ৩ বছর হয়ে গেলো জেলে কার্ড থাকা সত্বেও আমরা  চাল পাইনা। অন্য পেশার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কার্ড ও চাল দেয়া হয়। প্রকৃত জেলে নির্বাচন করে প্রকৃত কার্ডের মাধ্যমে চাল দেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।


বাশঁবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আখন বলেন, নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ের আগেই প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরন করতে হবে, পাশাপাশি মহাজন ও আড়তদারদের দাদনের ফাদঁ থেকে জেলেদের মুক্ত করতে সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋন সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। 


বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনায়েত কবির ফারুখ বলেন প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অন্য পেশার মানুষকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত সুবিধা ভোগ করেছে, এটা অনায্য। প্রকৃত জেলেদের চিহ্নিত করে সরকারি সুবিধার আওতায় আনতে হবে।


ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক নজরুল হোসেন মোল্লা বলেন, অবরোধ কালীন সময়ে জেলেদের চাল দেওয়া হয়না, চাল দেওয়া হয় অবরোধের ৪/৫ সপ্তাহ পড়ে, আবার প্রকৃত জেলেরা চাল পাচ্ছেন না, আবার যে পরিমাণ বরাদ্দ থাকে দেয়া হচ্ছে তার চেয়েও কম, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।


দশমিনা উপজেলা জলবায়ু ফোরামের সভাপিত রায়হান বাদল বলেন যে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে; নিষেধাজ্ঞার কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে জেলেদের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, ভুল তালিকা সংশোধন করতে হবে,এবং নিষেধাজ্ঞার সময়কালীন প্রতিটি জেলে পরিবারের জন্য রেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?