শিরোনামঃ

মাদক নিয়ন্ত্রণের কনস্টেবলই মাদক সেবনে ধরা, ৬ মাসের কারাদণ্ড


সোহাগ হাওলাদার, বরগুনা:

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজ এলাকা বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রুবেল হোসেন নামে এক কনস্টেবলকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ। 


অধিদপ্তরের সদস্যদের অভিযানে আটকের পর ডোপ টেস্টে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ দণ্ড দেন। 


দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল হোসেন (৩১) বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। 


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। বরগুনায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। 


অধিদপ্তরের দাবি, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রুবেল ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন, এমন তথ্য পেয়ে বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজারের কাছে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। 


অধিদপ্তর আরও জানায়, আটকের সময় রুবেলের সঙ্গে একটি ছোট ব্যাগ ছিল। তবে পরে ওই ব্যাগটি আর পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 


জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল নিজে ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে অধিদপ্তর। পরে সোমবার সকালে রুবেলকে বরগুনার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডোপ টেস্ট করা হলে তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। 


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর রুবেল ও তার পরিবারের নামে বরিশাল ও বরগুনায় বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, গত চার বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি ও তার পরিবার। তবে এসব সম্পদের মালিকানা ও উৎসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 


এবিষয়ে বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। যাচাই বাছাই করে আমরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হই। রবিবারও তথ্য ছিল, তিনি ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন। এ কারণে চান্দখালী এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। তিনি বলেন,  রুবেলকে একটি ছোট ব্যাগসহ আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পিছন দিক থেকে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছে থাকা ব্যাগটি পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেন। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। উপপরিচালক আরও বলেন, রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি ইতোমধ্যে অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

অনলাইন ভোট

খবর সরাসরি ইনবক্সে পেতে চান?